আগে ব্যবসায়ীরা ঠিক হন, পরে পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আগে ব্যবসায়ীরা ঠিক হন, পরে পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আগে ব্যবসায়ীরা ঠিক হন, পরে পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

📅15 April 2018, 23:11

১৫ এপ্রিল, CNBD : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘আপনারা ঠিক থাকলে পুলিশ চাঁদাবাজি করবে কীভাবে? তাই আপনারা যারা (ব্যবসায়ী) আছেন তারা আগে ঠিক হন, পুলিশকে আমি দেখছি।’

আজ রবিবার দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই) সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা ভেজাল দেওয়া থেকে শুরু করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে থাকেন। বিশেষ করে রোজার মাসে অস্বাভাবিক হারে দাম বেড়ে যায়। পণ্যে ভেজাল পুলিশ বা সরকার তো দেয় না, আপনারাই দেন। বলবেন ধরছেন না কেন? ধরলেও বিপদ। এমন এমন জায়গা থেকে তদবির আসে যে বিপদে পড়তে হয়। আবার মালামাল পরিবহনের সময় গাড়িতে ওভারলোড করেন। ১০ টনের জায়গায় ৩০ টন নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন। রোডের অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। গাড়ির ফিটনেস ও ড্রাইভারের লাইসেন্স নাই। গাড়িতে মাদক বহন করা হয়। পরিবহনের কাগজপত্র চেক করতেই পুলিশ সড়কে গাড়ি থামায়। আপনারা যদি ঠিক থাকেন তাহলে পুলিশ চাঁদাবাজি করবে কীভাবে?

মতবিনিময়কালে ডিসিসিআইয়ের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, সরকার সঠিকভাবে ব্যবসায়ীদের মনিটরিং করে না। টিসিবি অকার্যকর প্রতিষ্ঠান। লোক দেখানো কিছু কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি। পুলিশ পরিবহনে চাঁদাবাজি করে। কাগজপত্র চেক করার নামে গাড়ি আটকিয়ে রাখে। যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। এক সময় দাম বৃদ্ধি পায়। রোজার মাসে ইফতার পার্টির নামে চাঁদা আদায় করা হয়। অনেক সময় সরকারের বিভিন্ন সংস্থা চাঁদা তোলার ক্ষেত্রে পৃষ্ঠপোষকতা করে। ওইসব চাঁদার টাকা ব্যবসায়ীরা ঘর থেকে এনে দেন না। পণ্যের ওপর লাভ করেই চাঁদা দিয়ে থাকেন। ফলে পণ্যের দাম বাড়ে। রোজার মাসে ইফতার পার্টি কমাতে হবে। এটি কমানো হলে চাঁদাবাজি ও যানজট দুটোই কমবে। পণ্যের দামও বাড়বে না।

এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইফতার পার্টি অনেক সময় বিড়ম্বনার সৃষ্টি করে। তবে অতিরিক্ত যাতে না হয় সেদিকে সকলকে মনোযোগী হতে হবে। ঈদে আপনাদের অনেকেই কর্মচারীদের বেতন না দিয়ে অফিসে তালা লাগিয়ে চলে যান। তখন কর্মচারীরা রাস্তায় নেমে এলে অসহনীয় যানজট তৈরি হয়। ওই সময় সবাইকে ডেকে বসার পর সমাধান হয়। কিন্তু ততক্ষণে মাইলের পর মাইল যানজট থৈরি হয়। যা সামাল দিতে দুই-তিনদিন পর্যন্ত সময় লেগে যায়। এতে ট্রাকভর্তি পচনশীল পণ্যগুলো নষ্ট হয়ে যায়।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো থেকে হকার উচ্ছেদ করতে হবে। এটির কারণে যানজট অসহনীয় আকার ধারণ করে। পণ্যের গাড়ি আটকে থাকে। সময় মতো পণ্য পৌঁছানো যায় না। তখন দাম বাড়ে। আবার মজুদ না থাকার কারণে দাম বেড়ে যায়।

ডিসিসিআইয়ের কোনো সদস্য ভেজাল পণ্যের সঙ্গে যুক্ত না জানিয়ে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, ‘ভেজাল রোধে সরকারকে আরও বেশি কঠোর হতে হবে। সঠিকভাবে কাজ করতে হবে। বেশি বেশি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে।’

এসব কথার জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘কিছু ব্যবসায়ী আছেন যারা হাসপাতালে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করেন। পণ্যে ভেজাল মেশাচ্ছেন। তেলে সরিষা নেই তারপরেও সরিষার তেল। সব কিছুই আপনারা করছেন। এ সব বিষয়ে আমাকে দেখতে হয়। মন্ত্রী হওয়ার পর বুঝেছি, কে কী রকম, কে কেমন?’

পুলিশের চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চাঁদাবাজি কঠোরভাবে বন্ধ করা হবে। তবে কারা করেন, তাদের নাম বলতে হবে। দুই চারজন চাঁদাবাজ পুলিশে রয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। বর্তমান পুলিশ অনেক বেশি শিক্ষিত এবং আগের চেয়ে অনেক সৎ। তারা মানুষের সেবা করতেই এসেছেন। এর মধ্যেও দুই চারজন অসৎ থেকে যায়। আপনারা শনাক্ত করে নাম বলবেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ক্যাব সভাপতি ও দুদকের প্রাক্তন চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, ‘যানজট, ট্রাকজট, চাঁদাবাজি, দাম বাড়ানো, ভেজাল মেশানোসহ ব্যবসায়ীরা যে অপকর্মগুলো করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি মনে করেন এসব সমস্যা সমাধান সম্ভব। এক্ষেত্রে নকল ও ভেজাল পণ্য রোধে মোবাইল কোর্ট জোরদার করতে হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণ ও দাম বাড়ানোর পেছনে ভোক্তাদেরও দায় রয়েছে। কারণ রমজানে তারা সংযমের পরিবর্তে লাগামহীনভাবে খাওয়া শুরু করেন

No Comments

No Comments Yet!

You can be first one to write a comment

Leave a comment