“কবিতা মৈত্রীর কবিতা শান্তির” স্লোগান নিয়ে শুরু হলো জাতীয় কবিতা উৎসব ২০১৬

“কবিতা মৈত্রীর কবিতা শান্তির” স্লোগান নিয়ে শুরু হলো জাতীয় কবিতা উৎসব ২০১৬

📅01 February 2016, 12:35

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদকঃ

ঢাকাঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি চত্বরে শুরু হয়েছে কবিদের মিলনমেলা। তাঁরা যোগ দিয়েছেন দুই দিনের জাতীয় কবিতা উৎসবে। আজ সোমবার সকালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, শিল্পী কামরুল হাসানের সমাধি ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুলের শ্রদ্ধা জানিয়ে শুরু হয় এই উৎসব। ‘কবিতা মৈত্রীর কবিতা শান্তির’ স্লোগান নিয়ে এবারের উৎসবটি উৎসর্গ করা হয়েছে কবি ও ভাষা-সংগ্রামী তোফাজ্জল হোসেনকে। ৩০তম এই কবিতা উৎসবের উদ্বোধন করেন কবি সৈয়দ শামসুল হক।
সকালে লাইব্রেরি চত্বরে জাতীয় পতাকা ও উৎসব পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত ও উৎসব সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসবের মূল অনুষ্ঠান। এর পরে জাতীয় কবিতা পরিষদ আয়োজিত উৎসবের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। বক্তব্য দেন উৎসবের আহ্বায়ক কবি রবিউল হুসাইন, যুগ্ম আহ্বায়ক কবি কাজী রোজী ও পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি তারিক সুজাত।

জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মুহাম্মদ সামাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিল্প সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে অবদান রেখে যাঁরা প্রয়াত হয়েছেন, তাঁদের স্মরণ করে শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন কবি আমিনুর রহমান সুলতান।

উদ্বোধনী ভাষণে সৈয়দ হক বলেন, ‘কবিতা স্বপ্ন, চেতনা ও প্রত্যয়ের কথা বলে। যখন সেটা আঘাতপ্রাপ্ত হয়, তখন কবিরাই হয়ে ওঠে প্রতিবাদী। অনেকে হয়তো ভাববেন, কবিতার সঙ্গে সংগ্রামের কী সম্পর্ক? আমি বলব, কবিতা মানবতার কথা বলে। মানবতাকে জাগিয়ে তুলতে ভূমিকা রাখেন কবিরা।’ আহ্বায়কের বক্তব্যে কবি রবিউল হুসাইন বলেন, ‘কবিকে সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। সেই উদ্দেশ্য নিয়ে জাতীয় কবিতা পরিষদ কবিতার মাধ্যমে তাদের সামাজিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।’

সাধারণ সম্পাদক কবি তারিক সুজাত বলেন, ‘মৈত্রী ও শান্তির বাণী বাংলা ভাষাসহ আরও বেশ কয়েকটি ভাষায় কবিদের লেখা ও উচ্চারণের মধ্য দিয়ে পৃথিবীময় ছড়িয়ে পড়বে। অশান্ত পৃথিবীর শান্তিপ্রিয় মানুষের পাশে আমাদের কবিতা মোমের শিখা হয়ে জ্বলবে—ত্রিশতম উৎসবে এই প্রত্যাশা।’

কবি রফিক আজাদের চিকিৎসার জন্য জাতীয় কবিতা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে কবি মুহাম্মদ সামাদ বলেন, ‘বাংলা এবং অন্য ভাষার কবিতাকে আরও সুন্দর, শিল্পিত ও সুষমামণ্ডিত করতে নবীন-প্রবীণ শুভবাদী কবিদের প্রতি ত্রিশতম জাতীয় কবিতা উৎসবমঞ্চ থেকে আমন্ত্রণ জানাই।’

উদ্বোধনী পর্ব শেষে বেলা সাড়ে ১১টায় অনুবাদক ফকরুল আলমের সভাপতিত্বে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ, ভারত, সুইডেন, নরওয়ে, স্লোভাকিয়া, মরক্কো, তাইওয়ান, নেপালের আমন্ত্রিত কবি-লেখক-প্রতিনিধিরা।

দ্বিতীয় পর্বে বেলা একটায় সাযযাদ কাদিরের সভাপতিত্বে কবিতা পাঠে অংশ নেন নিবন্ধিত কবিরা। তৃতীয় পর্বে বিকেলে তিনটায় কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে অংশ নেন অন্য ভাষার কবিরা। চতুর্থ পর্বে বিকেল পাঁচটায় কবি রুবি রহমানের সভাপতিত্বে আমন্ত্রিত কবিদের কবিতা পাঠ করার কথা রয়েছে। এ ছাড়া পঞ্চম পর্বে বিকেলে সাড়ে ছয়টায় কবি মহাদেব সাহার সভাপতিত্বে ভারত থেকে আমন্ত্রিত কবিদের কবিতা পাঠ করার কথা রয়েছে।

আবৃত্তি পর্বে নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদারের সভাপতিত্বে রাত আটটায় আমন্ত্রিত অতিথি আবৃত্তিশিল্পীরা আবৃত্তি করবেন। প্রথম দিনের আয়োজন চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। দুই দিনব্যাপী উৎসবের সমাপনী হবে আগামীকাল, ২ ফেব্রুয়ারি।

No Comments

No Comments Yet!

You can be first one to write a comment

Leave a comment