কেউ নির্বাচনে না এলে করার কিছু নেই: প্রধানমন্ত্রী

কেউ নির্বাচনে না এলে করার কিছু নেই: প্রধানমন্ত্রী

কেউ নির্বাচনে না এলে করার কিছু নেই: প্রধানমন্ত্রী

📅19 February 2018, 22:40

১৯ ফেব্রুয়ারি, CNBD : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি নির্বাচন না করলে কারও কিছু করার নেই, গতবারও করেনি। নির্বাচনে যদি না আসে, তাহলে আমাদের কিছু করার নেই। নির্বাচন সময় মতোই হবে।

আজ সোমবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর ইতালি ও ভ্যাটিকান সফর নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা কেউ কি বিএনপির গঠনতন্ত্র দেখেছেন? সেখানে দলীয় চেয়ারপাসনের অনুপস্থিতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানকে ভারপ্রাপ্ত করার কথা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু যাকে করা হয়েছে তিনিও একজন ফেরারি আসামি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এতিমের টাকা মেরে খেলে শাস্তি, এটা আদালতও দেয়, আল্লাহর তরফ হতেও দেয়। আমাদের তো কিছু করে নাই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘রায়টা তো আমি দিইনি, রায়টা দিয়েছে কোর্ট। মামলাটা করেছে কে? ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দীন সরকার। ফখরুদ্দীনকে গভর্নর করেছিল। নয়জনকে ডিঙ্গিয়ে মইন উ আহমেদকে সেনাপ্রধান করেছিল। আর ইয়াজউদ্দীন তো তাদের ছিলই। মামলাটা তারা দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এই মামলাটা ১০ বছর চলেছে। এই মামলায় তিন বার জজ পরিবর্তন হয়েছে, সময় চেয়েছে ১০৯ বার। বহু টালবাহানা আপনারা দেখেছেন। ২৬১ দিনের মতো তারিখ পড়ল। আপিল বিভাগে ২২ বার রিট করা হয়েছিল। এত কিছুর পর তিনি মাত্র ৪৩ দিন কোর্টে হাজির হয়েছিলেন।’

শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘২০১৪ সালে নির্বাচন ঠেকানোর নামে তারা আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। গাড়িতে পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা করেছে। ২০১৩-১৫ পর্যন্ত তারা পাঁচশর মতো মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাকে যখন জেলে নিয়ে গেল আমি জিল্লুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করলাম। আমি আমার বোনকেও করিনি, ছেলেকেও করিনি। আর আমি কিছু বলতে চাই না। আমরা কিছু বললে তো অনেক দোষ।

খালেদা জিয়ার রায় এবং বিএনপির গঠনতন্ত্র সংশোধন নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোর্ট রায় দিয়েছে, আমাদের কিছু করার নেই। এরপরও দোষ আসে আমাদের উপর।’

‘দেখুন কোর্টের রায়ের আগে ৭ ধারা সংশোধন করে ইসিতে সাবমিট করেছে’-যোগ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপির একটি গঠনতন্ত্র আছে, ওটার কোনো খোঁজও পাওয়া যায় না। বিএনপিতে সব ক্ষমতা চেয়ারম্যানের হাতে, আমাদের গঠনতন্ত্রে তা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হলে কেউ তাদের দলে থাকতে পারবে না, তারা সেটা সংশোধন করে নিল। এটা ঠিক চেয়ারম্যান না থাকলে এক নম্বর ভারপ্রাপ্ত ভাইস চেয়ারম্যান হবেন চেয়ারম্যান। কিন্তু তিনিও আবার ফেরারী আসামি। আমার প্রশ্ন বিএনপিতে কি এমন কোনো নেই, যাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা যেত। একটা লোক কি খুঁজে পাওয়া গেল না, যাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা যেত।’

একাত্তর টিভির ফারজানা রূপা বলেন, জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টের তহবিলে এখন ২৯ লাখ টাকা আছে, এখন সরকার কি তা এতিমদের কাছে বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে কি না?

কারাগারে খালেদা জিয়ার জন্য ব্যক্তিগত গৃহকর্মী রয়েছে, অন্যদের ক্ষেত্রে তা হবে কি না- সেই প্রশ্নও করেন রূপা।

শেখ হাসিনা বলেন, অনেকে আছেন শুধু দিতেই পারে। আমরা দুই বোন, আমাদের একটা মাত্র বাড়ি। আমার আব্বা সারাজীবন জনগণের জন্য কাজ করেছেন, ওই বাড়িটি তাই জনগণের জন্য দিয়ে দিয়েছি। আমরা ট্রাস্ট করে ১৭০০ থেকে ১৮০০ জনকে সহায়তা করি। আমরা এটা নিয়ে খুব একটা প্রচারও করি না।

কেউ যদি এতিমের টাকা আসার পরও মায়া ত্যাগ করতে না পারে, তা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। আমি বলতে গেলেই তো..।
কেউ নির্বাচনে না এলে করার কিছু নেই: প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনা বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে আমাকে শ্যাওলা ধরা একটি ভবনে রাখা হয়েছিল, খাট ছিল ভাঙা। তাকে রাখা হয়েছিল স্পিকারের বাড়িতে, তার সঙ্গে এই ফাতেমাকে দেওয়া হয়েছিল। এটা গোপন ছিল। ডিআইজি হায়দার (সামছুল হায়দার সিদ্দিকী) সাহেবকে জিজ্ঞাস করলেই জানতে পারবেন।

আদালত দিয়েছেন। বেশি কিছু তো দেওয়ার নেই, একজন মেইড সার্ভেন্ট দিয়েছে। যদি আরও কিছু ডিমান্ড করে।

No Comments

No Comments Yet!

You can be first one to write a comment

Leave a comment