শিশুদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

শিশুদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

শিশুদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

📅17 March 2019, 23:20

বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে শিশু-কিশোরদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে যেন আজকের শিশু আগামী দিনে সুন্দর একটা ভবিষ্যৎ পায়, সুন্দর একটা জীবন পায়, সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই কাজ করে যাচ্ছি।

আজ রবিবার সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে শিশু-কিশোর সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এর আগে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম মধুমতিপারের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে। আর এই টুঙ্গিপাড়াতেই চিরশায়িত আছেন কালের এই মহানায়ক। তাই জাতির পিতার ৯৯তম জন্মবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকশ দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এরপর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে মহান এই নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সমাধি প্রাঙ্গণে দোয়ায় অংশ নেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এরপর শিশু কিশোর সমাবেশে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুকে লেখা চিঠি নামে একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করে জাতির পিতার জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন তিনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিশু অধিকার যাতে নিশ্চিত হয়, সেজন্য ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা বাংলাদেশে শিশু আইন প্রণয়ন করেন। এমনকি তখন জাতিসংঘও শিশু অধিকার আইন করেনি। জাতিসংঘ এই আইন করেছিল ১৯৮৯ সালে। জাতির পিতা তা করে যান ১৯৭৪ সালে। কত দূরদর্শিতা ছিল তাঁর নেতৃত্বে!’

তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও কম্পিউটার ল্যাব করে দিচ্ছে। প্রতিটি জেলায় ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাব করে দেওয়া হচ্ছে। সারাদেশে ছাত্রছাত্রীদের বিনামূল্যে বই দেওয়া হচ্ছে, পাশাপাশি যারা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী তাদের জন্য ব্রেইল বইয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য তাদের ভাষার বই দেওয়া হচ্ছে।

মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা বঙ্গবন্ধুর ছেলেবেলা থেকেই ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার দাদীর কাছে গল্প শুনেছি যে নিজের বইৃ গরীব ছাত্রছাত্রী হলেৃ অনেক সময় কষ্ট করে পড়তে হত, তখন.. তাদেরকে তিনি বিলিয়ে দিতেন। মাইলের পর মাইল হেঁটে বা নৌকা করে স্কুলে যেতে হত, হেঁটে যাওয়ার সময় ছাতা কিনে দেওয়া হত। যারা দূর দূরান্তে যেতেন তাদের তিনি নিজের ছাতাটা দিয়ে দিতেন।

“অনেকে বিভিন্ন বাসায় লজিং থেকে পড়াশোনা করত, সেখানে হয়ত ঠিকমত খাবার পেত না। তার (বঙ্গবন্ধু) কাছে যখন কথাটা বলত, তাদের তিনি বাসায় নিয়ে আসতেন এবং তার জন্য যে খাবার থাকত, সেটা ভাগ করে খেত। এই কথা শোনার পর আমার দাদি বেশি করে খাবার রেখে দিতেন।”

শেখ হাসিনা বলেন, এসব কাজের জন্য তার দাদা-দাদি তাদের ছেলেকে বকাঝকা না করে বরং উৎসাহ দিতেন। তিনি আরও বলেন, “জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছিল। ৭ই মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু তারপরও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সে ভাষণ প্রচার করেছিল। তাদের নির্মম নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।”

টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ প্রাঙ্গণে পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া লামিয়া সিকদারের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান সেলিমা হোসেন, শিশু ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন নাহার, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার কেএম আলি আজম বক্তব্য দেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এটিএম ফজলে রাব্বি মিঞা, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, তোফায়েল আহমেদ এমপি, আমির হোসেন আমু এমপি, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি, কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক এমপি, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, শেখ হেলালউদ্দিন এমপি, শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল এমপি, শেখ তন্ময় এমপিসহ দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

No Comments

No Comments Yet!

You can be first one to write a comment

Leave a comment